প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং
পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে নির্বাচনী সহিংসতায় ৩০ জনের অধিক নিহত

পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র সৃষ্ট সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও আছেন।
আজাদ কাশ্মিরের জেলার সংখ্যা ১০টি। এই জেলাগুলো ৩টি বিভাগে বিভক্ত— মুজাফফরাবাদ, পুঞ্চ ও মিরপুর বিভাগ। মিরপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ৩ জেলা কোটলি, মিরপুর ও ভিম্বারে গত ২৭ জুলাই সোমবার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে।
আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় মোট আসনসংখ্যা ৫৩টি। এসব আসনের মধ্যে ৩৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন স্থানীয়রা। বাকি ২০টি আসনের মধ্যে ১২টি ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য বাকি ৮টি নারী, উলেমা, টেকনোক্র্যাটদের জন্য সংরক্ষিত।
আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) গত কয়েক মাস ধরে বিধানসভায় ‘শরণার্থী কোটা’ তুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনের কারণে গত জুন মাসে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৭ জুলাই আজাদ কাশ্মিরের তিন বিভাগের সব জেলায় একযোগে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সহিংসতার কারণে তিন দফায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফায় ভোট হয়েছে মিরপুর বিভাগে। পরে ২ এবং ১০ আগস্ট যথাক্রমে পুঞ্চ ও মুজাফরাবাদ বিভাগের ৭ জেলায় ভোট হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং জম্মু-কাশ্মিরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে ২৭ জুলাই ভোটগ্রহণের সময় মিরপুরের তিন জেলা কোটলি, মিরপুর এবং ভিম্বারের বহু ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জেএএকে নেতা-কর্মীদের সহিংসতা ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়েছে। এই সহিংসতার কারণেই নিহতের সংখ্যা ৩০ জন ছাড়িয়েছে।
এদিকে মে-জুন মাসে জেএএকের তীব্র আন্দোলনের সময় আজাদ কাশ্মিরের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলজুড়ে জারি করেছিল কঠোর নজরদারি। ২৭ জুলাই ভোটগ্রহণেরও পরও সেই অবস্থায় বজায় আছে।
আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা ফজল মাহমুদ বেইগ রয়টার্সকে নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, “এ নির্বাচন আসলে একটি প্রতারণা। আমরা চাই এই সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হোক।”
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।